শিল্পী আকবর উদাসকে বাচান....














শিল্পী আকবর উদাসকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

জনপ্রিয় সঙ্গীত প্রতিভা ও কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট বাউল শিল্পী আলী আকবর উদাস পাকস্থলির জটিল টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। আকবর উদাস দেশ বিদেশের মঞ্চ ও রেডিও টেলিভিশনে গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন। কিন্তু নিজের অজান্তেই শরীরে তাঁর বাসা বেঁধেছে মারণব্যাধি। সম্প্রতি জ্বর ,জন্ডিস ও পিত্তথলি জটিলতায় আক্রামত্ম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জনপ্রিয় এই শিল্পীর জটিল পাকস্থলি টিউমার ধরা পড়ে। দ্রম্নত এই টিউমার অপসারণ করা না হলে তা ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে চিকিৎসকদের পক্ষ  থেকে। ভেলর হাসপাতালে বিশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই জটিল টিউমারের চিকিৎসা সম্ভব বলে এ্যাপোলো হাসপাতালের ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরোজ সিনহা শিল্পী আকবরকে ভারতে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দ্রম্নত ভারতে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি শিল্পীর নেই। এমনকি দেশের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়ার সঙ্গতিও আকবর হারিয়ে ফেলেছেন। তাই নিজগ্রামে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে মানুষের সাহায্য প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুণছেন।
কুষ্টিয়ার দক্ষিণ ভবানীপুরের দুস্থ-গরীব পরিবার থেকে জাতীয় শিল্পী হওয়া আকবর উদাস এর আর্থিক অবস্থা খুব দৈন্য। নিজের সঞ্চিত অর্থ ও সম্পদ যা ছিল, ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিঃশেষ করে ফেলেছেন এই গরীব শিল্পী। ভারতের ভেলর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অমত্মত চারলাখ টাকা প্রয়োজন। নিজের জীবন বাঁচাতে শিল্পী আকবর উদাসের প্রত্যাশা,  বিত্তবান সমাজ যদি এগিয়ে আসে তাহলে তিনি সুস্থ্য হয়ে আবার সঙ্গীত চর্চায় মনোনিবেশ করবেন। ইতোমধ্যে শিল্পীর নিজ গ্রাম ও ইউনিয়নের মানুষ যে যা পারে চিকিৎসা তহবিলে সাহায্য দিয়েছেন। কিন্তু ভারতে যাওয়ার মতো টাকার সংস্থান এখনও হয়নি।
শিল্পী আকবর উদাস ১৯৭৭ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে জন্ম নেন। তাঁর পিতা অঞ্চলের প্রখ্যাত বাউল ও লোকশিল্পী মনসুর আলী বয়াতী। বাবার কাছ থেকেই আকবরের সঙ্গীতের হাতে খড়ি। কৈশোরে বাবার মৃত্যুর পর সংসারের ভার  এসে পড়ে তার কাঁধে । মাত্র আটবছর বয়স থেকে গানই ছিল আকবরের জীবিকার অবলম্বন। স্থানীয় ওষুধ বিক্রেতা হেকিম লোকমানের সঙ্গে গ্রাম্য হাটবাজারে মজমা জমাতে আকবরের গানের কোন জুড়ি ছিল না। হাটবাজারে ঘুরতে ঘুরতেই বাউল খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। এই বাউলেল কাছেও তালিম নেন আকবর। কিশোর বয়সেই আকবরের সঙ্গীত প্রতিভা অঞ্চল ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে। একের পর আসতে থাকে অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার ডাক। ১৯৯০ সালে  উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে আকবর দর্শকশ্রোতাদের তাক লাগিয়ে দেন। টেলিভিশনে ’ভরা নদীর বাঁকে’ আর ’সম্ভারে’ অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পর আকবরকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্য হয়ে ১৯৯৩ সালে শিল্পী তেহরানে যান। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভারতের বিভিন্ন শহরে গান করে আকবর সুনাম কুড়ান।  কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তার ঝুলিতে আসে অসংখ্য পুরস্কার ও সনদ। বের হয় একাধিক ক্যাসেট। কিন্তু গানই যার ধ্যান-জ্ঞান, আর্থিক অনটন কোনদিনই তার পিছু ছাড়েনি।  নিজের চিকিৎসার জন্য এখন শিল্পীকে তাই  মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।
শিল্পী আকবর উদাসকে বাঁচাতে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ আলী আকবর উদাস, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর-১৬৮১০৩২৬০৯৬ , ডাচ বাংলা ব্যাংক. কুষ্টিয়া শাখা। অথবা আলী আকবর উদাস, গ্রাম-দক্ষিণ ভবানীপুর ডাকঘর-যদুবয়রা, থানা-কুমারখালী, জেলা-কুষ্টিয়া। 

Comments